করিমপুরের জনৈক অভ্রদীপ বিশ্বাস কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপ্রকল্পের বর্তমান (জানুয়ারি ২০২৬) অবস্থান কী জানতে রেলদপ্তরের কাছে জানতে চেয়ে RTI আইনে আবেদন করেছিলেন। (Registration no. EARLY/R/T/26/00025, Dated 08.01.2026) । রেলদপ্তরের পক্ষে Deputy CE(Con)/PRD & PIO, Construction Department , Eastern Railway/Kolkata জে সি দাস গত ৫ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তার উত্তরে জানিয়েছেন যে রেলওয়ে বোর্ড প্রকল্পটি স্থগিত রেখেছে (The project has been shelved by the Railway Board.)।
তিনি আরও জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত স্থানিক সমীক্ষার(Final Location Survey/FLS ) পর প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট (Detailed Project Report/DPR ) গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রেলবোর্ডের কাছে জমা পড়েছে। প্রকল্প স্থগিত করে দেওয়ার পিছনে কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে- যাত্রী উপযোগিতা কম হবে এবং খরচ উঠবে না। রেল দফতরের অফিসিয়াল বক্তব্য: “In view of the Low traffic potential and Low rate of return, Railway Board has decided to shelve the proposal for time being”। এই কারণে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকল্পটি স্থগিত ঘোষণা করেছে [The project has been shelved by the Railway Board vide RB letter no. 2025/W-2/ER/DPR/ SURVEY/ 01(E-3488635 Dated 25.02.2025)]।

Unfulfilled dream…
প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট বা Detailed Project Report পেয়ে রেলের অর্থনৈতিক দপ্তর (FIRR ) বিষয়টি খতিয়ে দেখে বলেছে এই প্রকল্প (-)0.53% লোকসানে চলবে [As per DPR, the FIRR has been calculated as(-) 0.53% ]। এবং বিভিন্ন রকম কানাঘুষো উড়িয়ে দিয়ে রেল দফতরের আরো জানিয়েছে যে রেলের তরফে জমি অধিগ্রহণের কোন পত্র দেওয়া হয়নি (There is no such letter found in the records under this unit.)।
রেল দফতরের এই ঘোষণায় আশাহত শুধু নদীয়া বাসীরা না, বরং মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের অধিবাসীদের এক বিরাট অংশ। এক রেল আধিকারিকের কথায়, যেহেতু এই অংশে মাল পরিবহনের সুযোগ খুবই দুর্বল এবং এটি কেবল যাত্রী পরিষেবা হবে, তাই প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নেতিবাচক। “প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ২৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হলেও, রিটার্নের সম্ভবনা খুবই কম”।
পাশাপাশি আরেকটি কারণ উল্লেখ করছেন আধিকারিকরা। “করিমপুর রাজ্য মহাসড়কের সাথে সুসংযুক্ত। করিমপুর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বহরমপুর অংশের পলাশী থেকে মানুষ ট্রেনে যেতে পারে। তাই নতুন রেল সংযোগের কথা বিবেচনা করার সুযোগ আমাদের কাছে খুবই কম”| কিন্তু রেল দফতরের বলা অলাভজনক রেল পথের দাবী কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারী করিমপুরের অধিবাসীরা।
১৯০৫ সালে কৃষ্ণনগর জলঙ্গি মোট ৫৬ মাইল ১০ চেইন দূরত্বের এই পথে ইঞ্জিনীয়ার স্পেশাল অফিসার ক্যাপ্টেন সি এল ম্যাগনিয়াক (Captain C. L. Magniac) প্রযুক্তিগত বা টেকনিক্যাল দিকটি এবং মিঃ রেডিস (Mr Radice) রেলের সম্ভাব্য আয় বা আর্ণিং এর দিকটির সমীক্ষা করেন। তখন কৃষ্ণনগর এবং মেহেরপুরের লোকসংখ্যা বাদ দিয়ে গ্রামীণ এলাকায় প্রতি বর্গ মাইলে লোকসংখ্যা ছিল ৪৩৪ জন। ২০ এপ্রিল ১৯১০ মেসার্স এইচ.ভি.লো অ্যান্ড কোং’র প্রতিনিধি প্যাটিনসন (Pattinson) ও শুব্রিজ (Shoobridge) নতুন সার্ভে রিপোর্ট জমা দেন। এই সমীক্ষায় এলাকার পাট সহ অর্থকরী কৃষির কথা উল্লেখ করা হয়। “বর্তমান জনসংখ্যার পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ২০১১ সালে প্রতি বর্গমাইলে লোকসংখ্যা ছিল ৩,৪০০জন। স্বাভাবিকভাবে বলা যায় এখন জনবসতির ঘনত্ব আরও বেড়েছে। চাষবাসেও অনেক এগিয়ে গেছে। তাই এই রেল পথ তৈরি হলে তা অলাভজনক হবে সেই সম্ভবনা কম।”
করিমপুর বাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রস্তাবিত আড়ংঘাটা থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে দত্তপুলিয়া পর্যন্ত ৮ কিমি নতুন রেলপথ নির্মাণের কথা। করিমপুর সীমান্তবাসীর প্রশ্ন তাহলে নদীয়ার উত্তরপূর্বের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা নিয়ে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি কেন ধর্তব্যের বাইরে রাখা হবে?
দেশভাগের পর অবশিষ্ট ভারত থেকে সেভেন সিস্টার বিছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের চিকেন নেকের দিকে ভারতীয় রেল বিশেষ নজর দেয়। আসাম রেল সংযোগ প্রকল্প ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে শুরু করে ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ করার ফলে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে আসামের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনঃস্থাপিত করা সম্ভব হয়। আর এখন নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে মাটির তলা দিয়ে সুড়ঙ্গপথে রেলকে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
নদীয়া মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের দাবি তেহট্ট করিমপুর চিকেন নেককে বাঁচাতে কৃষ্ণনগর, তেহট্ট, করিমপুর, জলঙ্গি, ডোমকল, ইসলামপুর হয়ে বহরমপুর রেলসংযোগ করা হোক। এর ফলে একটি নতুন বিকল্প পথের সন্ধান পাওয়া যাবে।
কিন্তু রেলের এই প্রকল্প বাতিল ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সেই বিকল্প পথ নির্মাণের প্রস্তুতিতে সম্ভবত চিরকালের মত যবনিকা নেমে এলো। গত প্রায় ১২১ বছর ধরে একাধিক সমীক্ষা বা সার্ভে, প্রস্তাব আলোচনার নিট ফল
শূন্য।। ১৯০৫ সাল থেকে “কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেল” নিয়ে ‘সমীক্ষা’র সান্ত্বনা পুরস্কার ১২১ বছর ধরে চালু রয়েছে। সর্বশেষ সমীক্ষা হয়েছে ২০২৪ সালে।
২০২৪ সালে সমীক্ষার নামকরণ করা হয় Feasibility study। এর জন্য ₹2 কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ করা হয়। বরাদ্দের সংবাদ মিলতেই নদীয়ার দুই মেরুর দুই সাংসদ বিজেপির জগন্নাথ সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক দলীয় অবস্থান থেকে নিজ নিজ কৃতিত্ব দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য তাঁরা সংসদের ভাষণে এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে লিখিত দাবি পেশের পরিপ্রেক্ষিতে মিলেছে এই অনুমোদন।
আগে ২০০৪ সালে এই পথে ধুবুলিয়া হয়ে চাপড়ার চারাতলা পর্যন্ত ১৩ কিমি. পথে শেষ সার্ভে হয়েছিল। সেখানে দু’টি স্টেশন জলাঙ্গী নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। এর কুড়ি বছর বাদে শেষ সার্ভের পরও প্রায় দুই বছর পার হতে চললো কোন সদর্থক পদক্ষেপ নজরে পড়ছে না।
কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথের দাবিতে তেহট্ট মহকুমা এলাকায় আবার আন্দোলন শুরু হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ নদীয়া উত্তর জেলার সমর্থকদের তরফে জানুয়ারি ২০২৬ সালে এসে করিমপুর থেকে তেহট্ট মোটর সাইকেল র্যালি, পথে অবস্থান বিক্ষোভের পাশাপাশি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছে।
পথে নেমে আন্দোলন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, জনপ্রতিনিধিদের কাছে দরবার ইতিপূর্বে বহুবার হয়েছে। ১৯৭২ সালে নদীয়ার সমস্ত বিধায়ক একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেলমন্ত্রীর লিখিত দাবিপত্র পেশ করেন। ১৯৮৪ সালের ১৮ অক্টোবর করিমপুরের বিধায়ক অরবিন্দ মণ্ডল প্রায় ২৫ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসহ দাবিপত্র রেলমন্ত্রী এবিএ গণি খান চৌধুরীর কাছে জমা দেন। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কৃষ্ণনগর রেলওয়ে যাত্রীসমিতির পক্ষ থেকে কয়েকহাজার মানুষের গণস্বাক্ষর সহ দাবিপত্র রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের ২০০ জন যুবকর্মী রেলপথের দাবিতে কৃষ্ণনগর – করিমপুর পদযাত্রা করেন। ২০০০ সালের ৩১ মার্চ করিমপুরের ভারতী মণ্ডলের নেতৃত্বে ৭০০০ মানুষের গণস্বাক্ষরিত চিঠি রেলমন্ত্রীকে দেওয়া হয়। বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী দাবি তোলেন ‘কৃষ্ণনগর-বহরমপুর ভায়া করিমপুর’ রেলপথের। তাঁর কথার প্রতিধ্বনি তুলে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ মুর্শিদাবাদের সিপিএম সাংসদ বদ্রুদোজা খান ‘কৃষ্ণনগর-বহরমপুর ভায়া করিমপুর’ রেলপথের দ্রুত রূপায়নে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান। ২০১৮ সালে সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করে শিক্ষক দূর্বাদল দত্ত এর নেতৃত্বে দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে চেনা অচেনা বহু মানুষ একত্র হয়ে ‘করিমপুর ওয়ান্টস রেলওয়ে’ নামে আন্দোলন গড়ে তোলেন। করিমপুর সীমান্ত থেকে কৃষ্ণনগর প্রায় ৯০ KM এলাকার কয়েকহাজার মানুষের গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকপত্র দিল্লিতে জমা দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ আমলে কৃষ্ণনগর – করিমপুরে পর্বৃযমত রেলপথ স্থাপনের প্রচেষ্টা হয়েছিল। ১৮৬০ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি প্রথম কলকাতা এবং কুষ্টিয়ার মধ্যে রানাঘাট হয়ে ১১১ মাইল ট্রেন পরিষেবা চালু করে। ১৮৯৯ সালে ব্রিটিশ সরকার শান্তিপুর হয়ে রানাঘাট এবং কৃষ্ণনগরের মধ্যে ন্যারোগেজ পরিষেবা চালু করে। এই সময়ে ব্রিটিশ সরকার প্রথমে করিমপুর হয়ে কৃষ্ণনগর এবং জলঙ্গি (মুর্শিদাবাদ) এর মধ্যে ন্যারোগেজ ট্রেন পরিষেবা প্রকল্পের কল্পনা করেছিল।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ রাজ্য রেলওয়েকে একটি জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেয়। ইবিএসআর-এর এম. রেডিস এবং ক্যাপ্টেন ম্যাগনিয়াক জরিপ প্রতিবেদনে এই অংশে ২৬টি স্টেশনের প্রস্তাব করেন যার আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ১৭,৭৬,৮২৬ টাকা। কিন্তু, প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।
পাঁচ বছর পর নদীয়া জেলা বোর্ডের ব্রিটিশ ফার্ম – এইচ.ডব্লিউ.ভি. লো অ্যান্ড কোম্পানি কর্তৃক নিযুক্ত কলকাতার কৃষ্ণনগর থেকে জলঙ্গি পর্যন্ত হালকা রেলপথ স্থাপনের জন্য একটি সংশোধিত ব্যাপক জরিপ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যার আনুমানিক ব্যয় ১৭,৫৬,৩৭৬ টাকা, যেখানে মাত্র ১২টি স্টেশনের প্রস্তাব করা হয়। এটি কৃষ্ণনগর এবং নবদ্বীপ ঘাটের মধ্যে আরেকটি রেল সংযোগ স্থাপনেরও প্রস্তাব করে যা ১৯২৬ সালে চালু হয়। কিন্তু, কৃষ্ণনগর-করিমপুর অংশে কিছুই করা হয়নি।
১৯০৫ এবং ১৯১০ সালের সংশোধিত সমীক্ষার পর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়না। পরবর্তীতে ১৯৪০-এর দশকে, ব্রিটিশ সরকার আরও দুটি জরিপ পরিচালনা করে কিন্তু কোনও ফল পাওয়া যায়নি, কেবল একই ভাড়ায় কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে রেলপথে বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর কেন্দ্র ৫৩ বছর সময় নিয়ে এই রাস্তার প্রথম সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে – বাস্তবে পঞ্চম জরিপ, যখন ২০০০ সালে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাও কোনও ফল দেয়নি।
২০০২-০৩ সালের রেল বাজেটে রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব চরাতলা (চাপড়া) পর্যন্ত মাত্র ১৩ কিলোমিটার অংশের জন্য নতুন করে জরিপ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা ২০০৪ সালে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। অর্থহীন জরিপগুলি এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছিল কারণ করিমপুর এখনও দেশের রেল মানচিত্রে স্থান পায়নি।
২৯ জানুয়ারী, ২০১৮ তারিখে দৌলতাবাদ বাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত হওয়ার পর করিমপুরের মানুষ রেল যোগাযোগের জন্য একটি পরিবর্তিত দাবি শুরু করে। তারা এখন করিমপুর হয়ে কৃষ্ণনগর এবং বেরহামপুরের মধ্যে (১৪৬ কিমি) একটি রেল যোগাযোগ চায়। তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার জন্য, করিমপুরের যুবকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি প্রচারণা শুরু করে প্রতিটি বাসিন্দাকে রেল মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন পাঠাতে বলে।
স্বাধীনতার পর কৃষ্ণনগর- করিমপুর রেলপথের দাবি মান্যতা না পাওয়ার পিছনে যাদের হাত রয়েছে তার একটি ‘অজুহাত’। দেশবিভাগের ফলে নদীয়ার সড়কপথ এবং প্রস্তাবিত রেলপথের জনপদগুলি পাকিস্তানের অংশে পড়ে যাওয়ায় জেলার উত্তরভাগ করিমপুর এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উত্তরবঙ্গের মতো তেহট্ট মহকুমায় ‘চিকেন নেক’ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে চাপড়ার কৃষ্ণনগর মেহেরপুর রোড থেকে এক দেড় বছরের মধ্যে কৃষ্ণনগর করিমপুর রাজ্যসড়ক নির্মিত হয়। বাস চলাচল শুরু হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ১৯২৫ সালে কৃষ্ণনগর চাপড়া মেহেরপুর পথে বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। পঞ্চাশের দশকে বাস মালিকদের তরফে বাধা আসে করিমপুরে রেল হলে বাসযাত্রী কমে যাবে। এইসময় করিমপুর থেকে রেলকাম বাস চালু করা হয়। ষাটের দশকে আবার আন্দোলন জোরদার হতেই বিশেষ করে ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে ভাসিয়ে দেওয়া হয় সীমান্ত এলাকায় একদিকে নিরাপত্তার অভাব, অন্যদিকে নদী নালা খালবিলের নানা ভৌগোলিক সমস্যার অজুহাত-ফলে প্রকল্পের সমাধি লাভ।
সত্তরের দশকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, শরণার্থী আগমন, রাজনৈতিক অস্থিরতা কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। পরবর্তীকালে প্রশ্ন তোলা হয় রেলের জন্য জমি পাওয়া যাবে তো? জমি জট হতে পারে বলে সে প্রশ্ন এখনও করা হয়। যদিও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কোনদিন কোন নোটিফিকেশন জারি হয়নি। এরই মধ্যে ২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষ্ণনগর সিটি জং স্টেশনে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথের শিলান্যাস করেন। পরের মাসে ২৯ ডিসেম্বর ২০০০ কেন্দ্রীয় সার ও রসায়ন মন্ত্রী বিজেপি’র সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় করিমপুর বাস স্ট্যন্ডে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন খুব তাড়াতাড়ি সার্ভের কাজ শুরু হবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতিই সার।
করিমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক এবং কৃষ্ণনগরের বর্তমান তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি| পরপর রেলমন্ত্রী এবং রেল বোর্ড চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক করেছি। কিন্তু, মনে হচ্ছে তারা মোটেও আগ্রহী নন কারণ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে লাভজনক রিটার্নের অভাব রয়েছে।” কিন্তু অর্থনীতি এবং আবেগ ভিন্ন হওয়ায়, মানুষ এই ব্যাখ্যায় বিশ্বাসী নন।
